1. [email protected] : Cholo Jaai : Cholo Jaai
  2. [email protected] : admin2024 :
বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

আমাদের চোখে ইতালির ভেনিস

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
গত ০৫/০৪/২০২৩ আমরা চারজন অর্থাৎ আমি, আমার স্ত্রী লিপিকা , আমার বড় ছেলে সায়ক আর আমার বৌমা মধুপর্ণা  ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে রাত সাড়ে ৯ টায় আকাশপথে উত্তর-পূর্ব ইতালির আড্রিয়াটিক সাগরের (Adriatic sea)বুকে গড়ে উঠা ভেনেতো অঞ্চলের প্রধান সুন্দরতম ভাসমান শহর ভেনিস অভিমুখে রওনা দিলাম । সময় লাগলো তিনঘণ্টা । বেশ রাত হয়ে গেছিল তাই আর কোথাও না ঘুরে সোজা চলে গেলাম হোটেলে । ভেনিস শহরে পা রাখতেই মনে পরে গেল শেক্সপিয়ারের সেই বিখ্যাত নাটক ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’। মনে পরে গেল হলিউড, বলিউড সিনেমার অনেক ছবির গানের দৃশ্য যার  শুটিং হয়েছিল আড্রিয়াটিক সাগরের বুকের এই শান্তিপূর্ণ রোমান্টিক শহর ইতালির ভেনিস নগরীতে ।

পরেরদিন সকালে হোটেল থেকে complimentary breakfast খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ভাসমান নগরীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে । ভেনিস নগরটি মূলত কতগুলো দ্বীপের সমষ্টি।

একটু এগোতেই বাদিকে চোখে পড়লো দিগন্তব্যাপী স্বচ্ছ নীলজলরাশির আড্রিয়াটিক সাগর । আর সেখান থেকেই বেড়িয়ে এসেছে এক বিরাট খাল যার নাম গ্র্যান্ড ক্যানেল যেটা এই ভাসমান নগরীকে দ্বিখণ্ডিত করেছে । আবার খালের দুই পাশকে সংযুক্ত করেছে অনেক চমৎকার সব সেতু। জলের উপর দিয়ে ছুটে চলেছে বা ভেসে চলেছে অসংখ্য নৌকা , ভেনিসের জলযানের একটি আকর্ষণীয় রোমান্টিক জলযান গণ্ডোলা , water taxi ও water bus । আমরাও টিকিট কেটে উঠে পড়লাম এক water bus এ । আমাদের নিয়ে গ্র্যান্ড ক্যানেলের উপর দিয়ে ভেসে চললো water bus । হটাৎ Ambulance এর আওয়াজ শুনে সব জলযানগুলি মধ্য থেকে একটু সাইডে সরে গেল যাতে Ambulance এর যেতে কোন অসুবিধা না হয় । দেখলাম মাথায় নীল আলো লাগানো আওয়াজ করতে করতে একটি জলযান ছুটে চলে গেল । শহরে যেমন বাস স্টপেজ থাকে তেমনি জলের ওপর সারা শহর জুড়ে দেখলাম অনেকগুলো জলযান স্টপেজ যেখানে লোক জলযানে উঠছে বা নামছে । ভেনিসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে সঙ্গী একমাত্র জলযান । ভেনিসে বসবাস করা প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা হলো নৌকা। বাড়ির ঘাটেই বাঁধা থাকে নিজস্ব নৌকা অথবা স্পিড বোট। মাকড়শার জালের মত পুরো ভেনিস জুড়ে চলে গেছে একেকটা সরু খাল। আর এইসব খালগুলি হল শহরের প্রাণশক্তি।পরিবহন, বাণিজ্য এবং পর্যটনের জন্য ব্যবহৃত হয় এইসব খালগুলি । Water bus এ করে যাতায়াতের পথে দেখতে পেলাম শহরের চোখ জুড়ানো রঙ, নকশা, স্থাপত্যশৈলীর। খালের দুইপাশ দিয়ে জলের উপর থেকে উঠে গেছে অসংখ্য বাড়ি ঘর ।জলের উপর দিয়ে যেতে যেতে চোখ আটকে গেল একটি জমকালো সেতুতে যার নাম শুনলাম দ্য রিয়াল্টো ব্রিজ । এই ব্রিজ প্রাচীনতম এবং এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিখ্যাতগুলির মধ্যে একটি । এই সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা করে যেতে খুব ভাল লাগছিল ।  সেতুর চারপাশ লোকে লোকারণ্য ছিল। তারপর একটু এগিয়ে জল থেকে ডাঙ্গায় উঠলাম ভেনিসের সবচেয়ে আইকনিক ল্যান্ডমার্ক এক অত্যাশ্চর্য ক্যাথেড্রাল ১১ শতকের সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা দেখতে ।  ক্যাথেড্রালটি তার বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের জন্য পরিচিত ।দেখলাম ভেনিসের আরেকটি বিখ্যাত আকর্ষণ ডোজের প্রাসাদ ,ভেনিসের সবচেয়ে বিখ্যাত জাদুঘরগুলির মধ্যে একটি পেগি গুগেনহেইম যেটি ১৮ শতকের একটি অত্যাশ্চর্য প্রাসাদে অবস্থিত। ভেনিসে গিয়ে মনে হচ্ছিল সারা পৃথিবী থেকে লোকজন ভেনিসে এসে জড় হয়েছে । যেদিকে তাকাই মানুষের ভিড় । সারা ভেনিস জুড়ে রয়েছে অনেক ভাল ভাল জাদুঘর, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট

। খাবার মানও খুব ভাল । দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে বেড়িয়ে পড়লাম গন্ডোলা নিয়ে ছোট ছোট খাল দিয়ে শহর পরিক্রমা করতে । সামগ্রিকভাবে ভেনিস সম্বন্ধে বলতে গেলে বলতে হয়  ভেনিস একটি শহর যার  ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। এটি এমন একটি শহর যা বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে  এবং ইতালিতে ভ্রমণকারী সবার কাছে অবশ্যই ভেনিস হয়ে উঠবে একটি দর্শনীয় গন্তব্য। সারাদিন খুব আনন্দ করে রাত্রের ট্রেন ধরে চললাম ইতালির রাজধানী রোমে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো ক্যাটাগরি
© All rights reserved © 2024 CholoJaai
Developed By ThemesBazar.Com